রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫

আলোকপাত না করলে গড্ডালীকা প্রবাহ চলতেই থাকবে। সন্ত্রাসের প্রথম ঘাঁটি হচ্ছে মানুষের মন

 আজকাল গতানুগতিক অনুসরন যেন প্রত্যেক মানুষের জীবনেই নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। বলার জন্য বহু খোলা কান থাকলেও কিন্তু শুনতে চাওয়ার মত যুক্তিসঙ্গত বর্ননা-- কিংবা অন্য ভাষায় বলতে গেলে কাহিনীর যেন বড়ই অভাব এখন। কাহিনী বাননো সহজ কাজ নয় বিধায় মানুষের মনন ও বোধগম্যতার বিচারে গেলে দেখা যাবে যে এখন বহু মানুষই সত্যমিথ্যার যাচাই করতে যান না।মানুষ এখন কোন ঘটনা সত্যই হোক আর মিথ্যাই হোক শুনে যাওয়ার পক্ষেই থাকেন। এই সুযোগে মিথ্যার ফুলঝুড়ি বাড়তেই থাকবে এমনটাই কি হওয়া উচিৎ। এখন মনে হবে যে গোয়েবলস নিজে যদি আমাদের মধ্যে নেমে আসেন তিনি নিজেও হয়তো সত্যমিথ্যার পার্থক্য ধরতে গিয়ে ভীমরি খেয়ে মারা যাবেন।

ব্যাপক পরিবর্তনের এই যুগে এখন চিন্তার চেয়েও দ্রুততা পেয়েছে মানুষের প্রত্যাশাগুলি। কে বলবে এসব প্রত্যাশার মধ্যে কতটা বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। মানুষের আকাঙ্গ্খা অনেক দূর পর্যন্ত। এর সঙ্গে ব্যাক্তিগত উচ্চাকাঙ্গ্খাকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। এর মধ্যে একটি স্বাধীনতা ধারাবাহিকতা অন্যটি আজন্ম গোলামীর দাসখত।এর ব্যাখ্যা এখানে নিস্প্রোজন। তবে কোথাও স্বাধীন বোধের অভাব ঘটলেই সেখানে এক মহাশক্তি উপস্থিতি স্বীকার করে নিতেই হবে।

আমরা যখন একবার কোনকিছু হারিয়ে ফেলি চিন্তার উর্বর ক্ষেত্রটি তখনই পাওয়া আর না পাওয়ার হিসাব কষতে সক্রিয় হয়ে পড়ে

 মনের মান্যতা শুধুমাত্র নুতনের অভিষেকের জন্য স্বাগত জানাচ্ছে।চারদিকে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের প্রানজুড়ানো দৃশ্য সময়ের আবর্তে হারিয়ে গেছে। একসময় জীবনের প্রয়োজনে যা কিছু গুরুত্ববহ ছিলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত হলে পরে একদম শুন্যতায় ভরে যায় সেসমস্ত অতীত স্মৃতিগুলি।একলহমায় একদম শুন্যতায় পর্যবসিত হয়ে যায় স্মৃতিময়তা এবং এমন একটি অবস্থানে এসে পড়েছে জীবন যে সামান্য কিছু স্মরনিকা বা হোমেজ প্রদর্শন করার মত কেউই থাকে না। আমরা যেন বর্তমানে এধরনের একটি দ্বন্দের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছি। 

অতীত এবং বর্তমানের দ্বন্দ এটা কখনই যে ছিল না তা কিন্তু নয়। তবে এখনকার যুগে এই দ্বন্দ সুস্পস্ট।যেন এটা খুব নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অবশ একটি সময়কে টেনে এবং হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে সম্মুখে। এই অবস্থাকে কি প্রগতী বলা যাবে। নাকি এসব আসলে একপ্রকার সামাজিক দায়বদ্ধতার ফলাফল। ফলাফলটাকে সবসময় পজেটিভ দৃস্টিতে দেখতে হয়।তাই বলে অনাকাঙ্গ্খিত দ্বন্দের প্রকৃতি সম্বন্ধেও ধারনা পরিস্কার হওয়া উচিৎ। কেন এবং কোন অবস্থানে এসে একটি প্রজন্ম তাদের অতীতের সঙ্গে সম্পর্ককে ভুলে বসবে বা অবজ্ঞা করবে। কোন নিরাপত্তা ইস্যুতে এমনটা হতে পরে অথবা সামাজিক দায়বদ্ধতায় কি পরিমান অবনতি ঘটলে পরে এরকম একটা অপ্রত্যাশিত অবস্থা  তৈরী হতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের অতীতের কাছে এই যে সামাজিক দায়বদ্ধতা এটা কিরূপে এবং কিভাবে আর কোন কোন নামে বিরাজ করে ভিন্ন ভিন্ন সমাজে সেটা বুঝতে পারা এবং নিজেদের কর্মজগৎকে নিজেদের উন্নয়ন ধারনার সঙ্গেই পুরোপুরি সংগতিপূর্ন রাখা। অথবা নিজস্ব বিচার বিশ্লেষনকে আরও প্রখর করে নেওয়া। পিছিয়ে পড়া সমাজকে শুধু শুধু স্বাধীনতর স্বপ্ন দেখানো কোন সহজ কর্ম নয়।প্রত্যেক মানুষের এবং জাতীর স্বাধীন স্বত্বা আলাদা হয়। তাই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা কোন একসময় ফিয়াসকো বা  প্রহসনে পরিনত হয়ে যেতে পারে। এই দর্শন মানুষের  একেবারেই অজনা নয়। ইতিহাস ঘাটলে তার প্রমানও মিলবে। কিন্তু লড়াই থেমে থাকতে পারেনা।

আলোকপাত না করলে গড্ডালীকা প্রবাহ চলতেই থাকবে। সন্ত্রাসের প্রথম ঘাঁটি হচ্ছে মানুষের মন

 আজকাল গতানুগতিক অনুসরন যেন প্রত্যেক মানুষের জীবনেই নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। বলার জন্য বহু খোলা কান থাকলেও কিন্তু শুনতে চাওয়ার মত যুক্তিস...